প্রকৃতিতে বসন্তের ফুলেল নিবেদন আর ভালোবাসার উষ্ণতায় সিক্ত ববি

 প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:২৫ অপরাহ্ন   |   শিক্ষা

প্রকৃতিতে বসন্তের ফুলেল নিবেদন আর ভালোবাসার উষ্ণতায় সিক্ত ববি


মাসুদ রানা (ববি প্রতিনিধি) :


আম্রকাননে শুনি ক্ষনে ক্ষণে, কোকিলের কুহুতান

আজি বসন্তে ভালোবাসার দূত গাহে শিমুল-পলাশের আগমনী গান!!


সেই আগমনী গানের সুরেই যেন সুর তুলেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাস।কবিতার চরণের ন্যায় প্রকৃতি যেন তার সকল সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়ে জানান দিচ্ছে,

আমি এসে গেছি তোমাদের'ই বসন্ত!

নিবে কি আমায় বরণ করে, করবে কি মোরে শান্ত?


বসন্তের এই ডাকে সাড়া দিয়ে তার সকল সৌন্দর্যকে বরন করে নিতেই যেন ববি ক্যাম্পাস সেজেছে বসন্তের সাজে,বসন্তকে বরণ করে নিয়েছে"বাসন্তিক"শীর্ষক এক অনবদ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।


এ যেন একদিকে বাসন্তী রঙে মেতে ওঠেছে, অন্যদিকে ভালোবাসার জোয়ার ভাসছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।


মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সকাল থেকেই ববির টিএসসি, মুক্তমঞ্চ ও আশপাশের এলাকা সাধারন শিক্ষার্থী, নারী, পুরুষ ও শিশুদের পদচারণায় উৎসবের আমেজে মুখর হতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, মুক্তমঞ্চ, ঝাঁউতলা, প্রতিলতা চত্বর, হতাশা চত্বর, এগারো চত্বর, সুফিয়া কামাল চত্বর সবই যেন পরিণত হয়েছে প্রেমিক যুগল ও সিনিয়র-জুনিয়রদের মিলনমেলায়।


দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাসন্তি রঙের শাড়ির সঙ্গে মিল রেখে চুড়ি, লিপস্টিক ও মাথায় পরেছেন ফুলের ক্রাউন। ছেলেরাও কম যাননি, প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিয়ে তারাও পরেছেন পাঞ্জাবি। প্রিয় মানুষটিকে আজ ভালোবাসার কথা জানাবেন কিংবা আবারো বলবেন ‘ভালোবাসি’— তারই যেন প্রতিযোগিতা চলছে।


এক যুগল জানালেন, ভালোবাসার জন্য স্পেশাল কোনো দিনের প্রয়োজন না হলেও আজকের দিনটিতে আমরা বিশেষভাবে উদযাপন করার সুযোগ পাই। এ দিনটা শুধু আমাদের। তাই প্রিয়তমাকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। আজ সারাদিন হাতে হাত রেখে ঘুরব, খাব, ছবি তুলব।


আরেক যুগল বলেন, নিজ ক্যাম্পাসে এই প্রথম ভালোবাসা দিবস উদযাপন করছি। আজকের দিনটি প্রাণভরে উপভোগ করতে চাই। আজকের দিনটি আমাদের মধ্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


মনির হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ভালোবাসা দিবস বলতে এখন শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক মনে করা হয়। আসলে ভালোবাসা প্রকাশ হতে পারে বন্ধু, বাবা-মা, পরিবার-পরিজন সবার প্রতিই। তাই আমরা বন্ধুরা এবং সিনিয়র-জুনিয়র মিলেই আজ দিনটিকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি।


দিবসটি উপলক্ষে ববির ক্যাম্পাসের মূল গেইট ও হতাশা চত্বরে ফুল বিক্রি করতে দেখা গেছে এক দল শিক্ষার্থীদের। ফুল বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন তারা। লাল গোলাপের চাহিদা ছিল সবার তুঙ্গে।


এক ফুল বিক্রেতা শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা এখানে স্টলগুলো দিয়েছি। সম্পূর্ণ ভালো লাগা থেকে এবং ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে ফুল বিক্রি করছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, এখানে যারা ফুল বিক্রি করে বিশেষ দিনে তারা দাম বাড়িয়ে দেয় এবং অনেক দর-কষাকষি করতে হয়। আমরা নামমাত্র মূল্যে হাসিমুখে দিয়ে দিচ্ছি। আমরা লাভের চিন্তা করছি না একটুও।


এদিকে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা সবার মরমে পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আয়োজনে বসন্ত উৎসব ১৪২৯ উদযাপিত হয়। গান গল্পে ছন্দে আনন্দে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নাটক, নৃত্য, রবীন্দ্র সঙ্গীত, কবিতা, আবৃত্তি, রেম্প সোসহ নানা আয়োজনে অংশগ্রহণ করে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।



পরে বিকালের দিকে অনুষ্ঠিত হয় বসন্ত উৎসব ‘বাসন্তিক’।

এই আয়োজনকে ঘিরে বিকাল থেকে মুক্তমঞ্চে ভিড় জমতে শুরু করে শিক্ষার্থী ও যুগলরা।

'বাসন্তিক’ শীর্ষক উৎসবের এই পর্বের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া।


বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই আয়োজনে প্রাণবন্ত হয়ে পড়ে পুরো মুক্তমঞ্চ ও এর আশপাশ এলাকা। নাটক, কবিতা, নৃত্য, গান, নজরুল ও রবীন্দ্রসঙ্গীত অনুষ্ঠান রাঙিয়ে তোলে শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটিতে আরো বাড়তি মাত্রা যোগ করে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে গান ও আবৃতি।

#


শিক্ষা এর আরও খবর: