কানাডাকে প্রথম বছরের মধ্যেই ‘খেয়ে ফেলবে’ চীন: ট্রাম্প

 প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কানাডাকে প্রথম বছরের মধ্যেই ‘খেয়ে ফেলবে’ চীন: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করায় কানাডার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর বদলে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বেছে নিলে এক বছরের মধ্যেই বেইজিং কানাডাকে ‘গ্রাস’ করতে পারে।শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, গ্রিনল্যান্ডে ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ নির্মাণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে কানাডা, অথচ এই ব্যবস্থা কানাডাকেও সুরক্ষা দিত। এর বদলে তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসার পক্ষে ভোট দিয়েছে। যারা প্রথম বছরের মধ্যেই তাদের ‘খেয়ে ফেলবে’।

কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্পের এ মন্তব্য এসেছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

গত বুধবার ডব্লিউইএফে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া ‘ফ্রি সুবিধা’, বিশেষ করে নিরাপত্তা সুরক্ষাসহ কানাডা আমাদের কাছ থেকে অনেক সুবিধা পায়। তাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত, কিন্তু তারা তা করছে না। গতকাল কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি, তিনি কৃতজ্ঞ ছিলেন না।’ একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কানাডাকেও সুরক্ষা দেবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে। পরের বার বক্তব্য দেওয়ার সময় এটা মনে রাখবেন, মার্ক। এ বক্তব্যে তিনি কানাডার নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ভূমিকার ওপর জোর দেন।অন্যদিকে ডব্লিউইএফে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ‘মহাশক্তির প্রতিযোগিতার নতুন যুগে’ নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন এবং শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করেন। যা ওয়াশিংটনের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ প্রচেষ্টার প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।এর আগে, গত ১৭ জানুয়ারি কানাডা ও চীনের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন কার্নি। তিনি জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে কানাডার ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কার্নি লেখেন, চীনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করেছি, যার ফলে কানাডার শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য বিশাল রপ্তানি সুযোগ তৈরি হলো।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আরও বিভক্ত ও অনিশ্চিত বিশ্বে কানাডা একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলছে। সে লক্ষ্যেই নতুন সরকার বাণিজ্য অংশীদার বৈচিত্র্য করছে এবং বড় আকারের বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীন এই অভিযানে কানাডার জন্য বড় সুযোগ।

চুক্তির অংশ হিসেবে কানাডা চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে, বিনিময়ে কানাডার কৃষিপণ্যের ওপর চীনের শুল্ক কমানো হবে বলে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বছরে ৪৯ হাজার চীনা ইভি আমদানির সীমা নির্ধারণ করা হবে, যা পাঁচ বছরে বাড়িয়ে প্রায় ৭০ হাজারে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চীন কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক ৮৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে নামাবে।

কার্নির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন এখন কানাডার জন্য বেশি পূর্বানুমেয় অংশীদার। সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এগিয়েছে। এটি এখন বেশি পূর্বানুমেয়, আর এর ফলও দেখা যাচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে কানাডা বর্তমানে বিভিন্ন শুল্কচাপের মুখে। কানাডীয় পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি আমদানিকৃত ধাতুর ওপর ৫০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উৎপাদিত গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের মাধ্যমে আংশিক সমঝোতা হয়। এর আওতায় ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত কিছু চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় কার্যকর থাকবে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর: