শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা: বিএনপির উদ্দেশে কঠিন বার্তা দিলেন রুমিন ফারহানা

 প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন   |   রাজনীতি

শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা: বিএনপির উদ্দেশে কঠিন বার্তা দিলেন রুমিন ফারহানা

বিএনপির নেতাকর্মীরা যদি এখনই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ না করে তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। 

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের হামলার শিকার হওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 


রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে ১২টা ১ মিনিটে তারই সবার আগে ফুল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তার ও তার সমর্থকদের ওপর রীতিমতো হামলা চালায়। 

আমাকে একপাশে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করা হয় জানিয়ে বিএনপির সাবেক এই নেত্রী বলেন, আমি এটুকুই বলব যে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে। বিএনপি যদি তার নেতা-কর্মীদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ না করে এখনই, এর পরিণতি ভয়াবহ রকমের হবে। যেহেতু দীর্ঘ ১৫ বছর, একটা লম্বা সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা নানানভাবে চাপে ছিল, লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছে; তারা যখন এরকম একটা ভয়ঙ্কর হিংস্রতা নিয়ে রাজনৈতিক পদের ব্যবহার করার চেষ্টা করে, এটা আমার মনে হয় দলের উঁচু পর্যায় থেকে বিষয়টি মনিটর করা এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, এটা দলের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর হবে। 


তিনি এই হামলাকে ‘পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত’ এবং ‘ভয়ংকর হিংস্রতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার দাবি, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার কষ্ট থেকে এবং কোটি কোটি টাকার লেনদেনে ব্যর্থ হয়ে গুন্ডা প্রকৃতির লোকেরা এই তাণ্ডব চালিয়েছে।

সরকার মাত্রই এসেছে জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এখনই যদি দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় উশৃঙ্খলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তবে এটি দলের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। ওই সময় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এর জেরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকেরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।


রাজনীতি এর আরও খবর: