ইবি উপাচার্যের কণ্ঠ সদৃশ নিয়োগ সংক্রান্ত অডিও ফাঁস

 প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন   |   শিক্ষা

ইবি উপাচার্যের কণ্ঠ সদৃশ নিয়োগ সংক্রান্ত অডিও ফাঁস


তারিক সাইমুম (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ) : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নিয়োগ পাইয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক চাকরি প্রার্থীর কথোপকথনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্রলীগ নিয়ে মন্তব্য করে তার কন্ঠ সদৃশ বেশকয়েকটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।  এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম হতবাক ও বিস্মিত। যা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করেন তারা। এছাড়া অডিওটিতে দেওয়া বক্তব্য তার কিনা? বা এ সম্পর্কে তার অবস্থান কি পরিষ্কার করতে পৃথক পৃথকভাবে বিবৃতি দিয়েছেন শিক্ষক সমিতি ও শাপলা ফোরাম।


শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এবং শাপলা ফোরামের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এ বিবৃতি দিয়েছেন।


এদিকে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় ইবি উপাচার্যের ফোনালাপ ফাঁসের প্রতিবাদে ভিসির অপসারণের দাবিতে উপচার্যের কার্যালয়ে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছেন অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদ। এ সময় তারা উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। আন্দোলনে তারা ‘চোর ভিসির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন, হৈ হৈ রৈ রৈ সালাম তুই গেলি কই, ইবি ভিসির দুই গালে জুতা মারো তালে তালে' সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্যের কার্যালয়ের তালা খুলে দেন তারা।


ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ফারহা জেবিন নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চাকরি প্রার্থীর এখন পর্যন্ত মোট চারটি অডিও ফাঁস হয়েছে।


চাকরিপ্রার্থী অলিউর রহমান উপাচার্যের ছাত্র বলে জানা গেছে। তবে অডিওতে শুধু উপাচার্যের কথাই শোনা যায়। তবে তাদের মধ্যে এ কথোপকথন কবে হয়েছে সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


অডিওতে অলিউর রহমানকে উপাচার্য বলেন, নিয়োগ বোর্ড গঠন করতে হলে অন্তত তিনজন প্রার্থীর প্রয়োজন।


তিনি বলেন, ‘ক্যানসেল হইছে... বোর্ডটাই হইছে এই কারণে, এই ইউনিভার্সিটিতে এখন পর্যন্ত দুইজন বা তিনজন নিয়ে কোনো দিন হয় নাই, হ্যাঁ। অ্যাপ্লিকেন্ট তিনজন হলে হয়ে যেত বুঝছেন?... এই কারণে, অন্য কোনো কারণে না। আমরা এই ২৩ তারিখের পরেই আবার এটা পুনঃ বিজ্ঞাপনে যাচ্ছি।’


তিনি আরো বলেন, '...অন্তত তিনজন ক্যান্ডিডেট জোগাড় করতে হবে। পয়সা দিয়ে হলেও। এসব দায়িত্ব আমার, তোমরা অন্তত ভাই দাও পরীক্ষাটা’।


অডিওতে উপাচার্যকে বলতে শোনা যায়, ‘...এটা রিটেনে সমস্যা হয়নি। তাও তো আপনি ইংরেজিটা লেখেন নাই। তারপরও... টাইম আপনি প্রথমটা ওতো সময় দিলেন কেন? প্রথমটা লেখছেন সাত পাতার মতো প্রায়। এই পাগলামি করে কেউ? ওটা বিষয় ছিল না। বিষয় ছিল যে অন্তত তিনজন যদিও থাকত। তিনজন দিয়ে তো প্রথমে বোর্ড বসাইছিলাম। কিন্তু এতে যে দুইজন এটা তো ধারণায় ছিল না’।


‘না না, কিন্তু সে তো আসেনি আমি তাই বলতেছি। ইন দ্যাট কেস আমরা তো ওই দুইজন যদি আগে এরা আগে এ রকম থাকত তাহলে তো পরীক্ষাটা নিতাম না। সে ক্ষেত্রে আরো একটু হ্যাজার্ড হতো আর কি। এখন যেটা করবেন ইমিডিয়েটলি ৩০ তারিখের পরে হয়তো উইদ ইন অ্যা উইক বা উইদ ইন টেন ডেইজ আমি ঢাকায় যাব, ঢাকা থেকে আসার পর অ্যাড হয়ে যাবে’।


উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম আরো বলেন, ‘আপনি এটাকে মিট আপ করে এখন যেটা আছে এমনকি ইউজিসির ওটাও আমি এ সিন্ডিকেটে নেব না। ইউজিসির লেটেস্ট যে নিয়োগের নিয়মটা মানে অ্যাপ্লিকেশনের যে যোগ্যতাটা। যাতে আপনি এপ্লাই করতে পারেন। বুঝছেন?’


‘এটায় তো তিনজনের বেশি হয় নাই। এ কারণে পুনঃ বিজ্ঞপ্তি দিতে বলেছি। সেটা আই অ্যাম নট ভেরি শিওর। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে আমি তো সব দেখি নাই। আমরা এটা পুনঃ বিজ্ঞাপন বলেছি। কিন্তু যেহেতু পুনঃ বিজ্ঞাপন...অ্যাপিয়ারকে আমরা ডাকিই নাই। ক্যান্ডিডেট কম ছিল। কিন্তু আমি তো... তিনজন পূর্ণ ছিল। কিন্তু যে পরীক্ষা দেবে না এটা তো বুঝতে পারিনি। এর পরে যেটা সেকেন্ড বিজ্ঞাপনে একজন হলেও নেওয়া যায়। বুঝতে পারছেন?’


‘এ বোর্ডটা তো এক ধরনের বসে গেছে। এ বোর্ডটা বসে গেছে না? যেমন আগে আবেদন করা ছিল কিন্তু আমরা অনেক দিন হয়ে গেছে, না ঠিক আছে, আমরা নতুন করে চাই। যারা আগে করেছে তাদের প্রয়োজন নাই। কিন্তু এটা তো বসছে। বসলে হয়তো লাগতে পারে। তো সেটা তো আপনার সেটা আছেই। আপনি কিছু মনে কইরেন না। আপনাকে আমি যে প্রশ্ন বলে দিলাম, আপনি দেখেন ওখানে ৫টা...। আপনি সব সময় বড় লেখার পক্ষে থাকবেন। আপনি সামারাইজ কিছু পারেন না। আপনি এরপরে খালি তিনজন ক্যান্ডিডেট গোছান। তারা অ্যাপ্লাই করবে, আপনি পয়সা দিয়ে দেবেন। ওরা এখানে জাস্ট অ্যাপিয়ার করবে আর কিচ্ছু না। ডন্ট গেট ওরিড, হ্যাঁ’।

এছাড়া আরো একটি অডিওতে সুজন নামের একজনকে বলতে শোনা গেছে, 'সুজন আমি সালাম কথা বলছি কুষ্টিয়া থেকে। কি ভালো আছেন? কি অফিসে? ও আজকে তো শনিবার তাহলে তো মুশকিল। আচ্ছা ইয়ে...একটা ব্যাপারে একটু হেল্প করা লাগবে যে। এটা হচ্ছে আমার এখানে ইউনিভার্সিটিতে বুঝছেন? এক সময় কিছু লোক ওই ধরেন সাত-আট-দশ বছর আগে ছাত্রলীগ করতো। ওই এলাকার মাস্তান-টাস্তান এ জাতীয় হবে টুকটাক অন্য জায়গায়ও চাকরিবাকরি করে। আর এরা আগে যিনি ভাইস-চ্যান্সেলর ছিলেন আরকি হ্যাঁ। ওই সময় ওনি ওদের দিয়ে ইয়ে...মানববন্ধনটন্তন করাতো ওনার পক্ষে। এইটা করাতে গিয়ে যেটা করছে প্রতিদিন ডে লিভার হিসেবে ধরেন ইংরেজিতে পাস, ফিন্যান্সে পাস, ইকোনমিকসে পাস...হ্যাঁ। এই জাতীয় বুঝছেন? এদেরকে করতো প্রতিদিন কারোর তিনশত টাকা কারোর পাঁচশত টাকা....মানে একটা লুটপাট আরকি সোজা কথা। আমি যখন আসলাম তখন বলে যে এদেরকে রেগুলার করতে হবে। আমরা অভ্যান্তরীন ক্যান্ডিডেট। আমি বলছি ডে-লেভার মানে হচ্ছে যে...আমার ডালপালা কাটবে, এখানে মাটি কাটবে এরাই হচ্ছে ডে-লেভার কিসের তোমরা....। পরে ফাইল-টাইল চুরি হয়েছিলো...তারপর এদের বিরুদ্ধে থানায় একটা কেস করলাম আরকি... ইবি থানায়। এখন আমি তলে তলে শুনতে পারছি যে ইবি থানার যিনি অফিসার ওনি হচ্ছেন এই যারা ভাংচুর করছে এই লিডালদের...ওরা ছিলো দশ-বার জন কিন্তু দু'জনকে আমরা নাম ইয়ে (কেস) করেছি আরকি।.... তো তার মামাতো ভাই বা ফুফাতো ভাই এরকম আত্মীয় আরকি।  এখন এই চার্জশিটটার্শিট গুলো দিতে বা কেসটারে কোর্টে নিতে..... একটা কাজ করতে হবে.....কারণ এই দুটোকে চাপে রাখলে ইউনিভার্সিটিটা ঠান্ডা থাকবে আরকি।'


এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় দিকে ইবি থানায় 'ফারহা জেবিন' নামের একটি ফেইক আইডি থেকে ইবি ভিসির কণ্ঠ সদৃশ্য কথোপকথন প্রচারিত হয়েছে। যা ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন করা হলো এমর্মে একটি জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান।


এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচএম আলী হাসান বলেন, 'এখানে এক পাক্ষিক কথা শোনা যাচ্ছে। ধারণা করছি কণ্ঠটা এডিট করা। আইডিটা খুঁজে বের করতে ভিসি স্যারের নির্দেশে থানায় জিডি করা হয়েছে। স্যার যশোরে সমাবর্তনে যোগ দিতে গেছেন।'


অডিও ক্লিপের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, 'অলিউর রহমানের সাথে আমার কথা হয়েছে এটা সত্য তবে যে অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে আমি প্রথম ক্লিপটি শুনেছি তাতে আংশিক মিল আছে আর বাকিটা বানোয়াট।'




শিক্ষা এর আরও খবর: