জাবির ভর্তি পরীক্ষায় শিফট পদ্ধতি অপরিবর্তিত রাখার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৩, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন | শিক্ষা
মাহমুদুল হাসান (জাবি প্রতিনিধি) :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শিফট পদ্ধতি অপরিবর্তিত রাখার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) দুপুর ২:৩০ টায় শিক্ষার্থীরা 'বৈষম্যের শিফট পদ্ধতি বাতিল কর', 'ভর্তি পরীক্ষা জুয়া খেলা নয়', 'এক প্রশ্ন এক মেধা তালিকা চাই' লিখিত পোস্টার ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ ব্যাচের সোহাগী সানিয়া বলেন, "শিফট পদ্ধতির বৈষম্যমূলক পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের জন্য বার বার বলেছি। ভর্তি ফরমের দাম কমাতে আমরা দাবি জানিয়েছি। আমাদের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছিল শিফট কমিয়ে দুইটিতে করা হবে। অথচ এখন তারা আগের সিদ্ধান্তেই বহাল রয়েছে।"
বাংলা বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আ র ক রাসেল বলেন, "জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মধ্যে সেই বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিফট পদ্ধতির দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা লুটপাট করা হয়। এটা বৈষম্যের ভর্তি পরীক্ষা যেটা মেনে নেওয়া যায় না। এখানে একেকটা শিফটে একেক রকম প্রশ্নের ধরনের কারনে শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না । বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ জ্ঞান বিতরন করা বানিজ্য করা নয়।"
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সৌমিক বাগচী বলেন, "হতাশার সাথে বলতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার বিপরীতে অর্থ উৎপাদনকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। শিক্ষকরা শিক্ষা প্রদান থেকে অর্থ উপার্জনকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই ভর্তি পরীক্ষা কোন জুয়া খেলা নয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আশে-পাশে থাকা স্কুল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। প্রশাসন চাইলে এটি বাস্তবায়ন করা সহজেই সম্ভব।"
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায় বলেন, "প্রতিবারই শিফট পদ্ধতির বৈষম্য নিয়ে আমরা দাড়িয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় বারবার আমাদের আশ্বাস দিয়েছে বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার৷ অথচ শেষে তারা নিজেদের সিদ্ধান্তেই অটল। অনেক শিক্ষার্থী এই বৈষম্যের কারণে এখানে ভর্তি হতে পারেনা। ভর্তি বাণিজ্যের এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।"
তিনি আরো বলেন, "আমরা যদি শিফট ভিত্তিক বৈষম্যের চিত্র আবারো দেখতে পাই তবে আমরা ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি ।"
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ এই মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে। এছাড়া মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু হাসান তা গ্রহণ করেন ও উপাচার্যের নিকট পৌছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জানান।

