বেরোবির ব্যাকডেটেড ওয়েবসাইট নেই পর্যাপ্ত তথ্য
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৩, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন | শিক্ষা
সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক (বেরোবি প্রতিনিধি) :
তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক এ যুগে ইন্টারনেটের সুবাদে যেখানে গোটা বিশ্বের সকল তথ্য এখন হাতের মুঠোয় পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে ব্যতিক্রম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাই (brur.ac.bd) নেই পর্যাপ্ত তথ্য।
আর যে যতসামান্য রয়েছে তার দীর্ঘদিন ধরে দেখা মেলেনি কোন হালনাগাদের। বেরোবির বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হালনাগাদ এবং আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থাকার পরও সেটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী ।
এ সময়ে দাড়িয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগগুলোকে নোটিশ জানায় চিঠির মাধ্যমে। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগেও চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বেরোবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (brur.ac.bd)। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য তথ্য জানার অন্যতম মাধ্যম এই ওয়েবসাইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগদ করা হয়না নিয়মিত।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা দেশের বাইরে আছেন তারা ওয়েবসাইট থেকে কোনো আপডেট (হালনাগাদ) তথ্য জানতে পারে না। ওযেবসাইটে যথেষ্ট তথ্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বপরিমন্ডলে তুলে ধরতে পারছে না তারা।আধুনিক যুগে স্মার্ট দেশে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভর্তি এবং ফর্ম ফিলাপের জন্য ব্যাংকে গিয়ে গাদাগাদি করে লাইনে দাড়িয়ে টাকা জমা দেওয়া অশোভনীয় বিষয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থাকা সত্বেও সেখানে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক রেজাল্ট প্রকাশ না করা হয় না যেটা বর্তমান সময়ে দাড়িয়ে মানায়না ।দেখা গেছে, অনেক সময় পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়েবসাইটে এডমিট কার্ড তোলার অনুমতি দেয়া হয়। ফলে এডমিট কার্ড ছাড়াই অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে প্রথম পরীক্ষা দিতে হয়। এতে পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের খাতায় স্বাক্ষর করার সময় তাদের রোল, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য তথ্য ভুল আছে কিনা তা চিহ্নিত করতে হিমশিম খায়।
এছাড়া ওয়েবসাইটে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট ঢালাওভাবে প্রকাশের পর পরবর্তীতে আবার প্রত্যেক বিভাগের রেজাল্ট সংশোধন করা হয় যা ভর্তি ইচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বড় দুর্ভোগের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নেই। হাতে থাকা স্মার্ট ফোন দিয়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ওয়েবসাইট (ss.brur.ac.bd)এ প্রবেশ করা না যাওয়াই শিক্ষার্থীরা বাইরের কম্পিউটার দোকানগুলোর শরণাপন্ন হয়।অনেক সময় অনভিজ্ঞ কম্পিউটার দোকানগুলো ওয়েবসাইটে ভুল তথ্য পাঠানোর কারণে ভোগান্তির শিকার হয় শিক্ষার্থীরা।
তাই স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার ব্যবস্থা করা একান্ত জরুরী হয়ে পরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওয়েবসাইটটির মাঝে মাঝে হালনাগাদ করা হলেও নেই কোন নতুন সংযোজন ও বিস্তারিত তথ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর, বিভাগ, রিসার্চ ইনস্টিউট, সাইবার সেন্টার, মসজিদ,ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষার্থীদের আবাসিক তিনটি হল,শিক্ষক -কর্মকর্তাদের দুটি ডরমেটরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন সংযোজন ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট নিরসন কাজে বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড.মো.হাসিবুর রশীদের অবদান নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদে দৃশ্যমান কোন কাজ করেননি তিনি।এমনকি গত উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদের জন্য অটোমেশন সিস্টেমের সম্পাদিত ৮০ শতাংশ কাজের বাকি অংশ বর্তমান উপাচার্য দায়িত্বপ্রাপ্তির আড়াই বছরেও শেষ করেননি। ইন্টারনেটের এযুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হালনাগাদে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
শত সংগ্রামের পর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরকে মোটেও কম সময় বলা যায় না। তাই দ্রুত সময়ে হালনাগাদ করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল তথ্য নিশ্চিত করা হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটিতে। দূর হোক শিক্ষক -শিক্ষার্থীদের, কর্মচারী-কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ভোগান্তি।
এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম বলেন, 'এসব সমস্যার কথা শুনেছিলাম। ওয়েবসাইটের টেকনিক্যাল বিষয় আমার জানা নেই। তবে না জেনে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে যে ভুল তথ্য প্রবেশ করায় তার সমাধানের জন্য নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ উৎসবের এ বিষয়ে তাদের কর্মশালার আয়োজন করার জন্য ভিসি স্যারকে বিষয়টি অবগত করব।'
সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডিজিটাল ট্রান্সফারমেশন সিস্টেমের পরিচালক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে এক সপ্তাহ ধরে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও নানা বেস্ততা দেখিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। মুঠো ফোনে ফোন দিলেও পরবর্তীতে ফোন কলে পাওয়া যায়নি তাকে।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মো.হাসিবুর রশীদ বলেন, 'বেগম রোকেয়া বিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট কাজ চলছে। খুব শীগ্রই ওয়েব সাইটি আপডেট করা হবে। তখন সকল সমস্যার সমাধান হবে আশা রাখি ।'

