বাংলাদেশ পুলিশের উজ্জ্বল নক্ষত্র ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান- মানবতার ফেরিওয়ালা (পর্ব-১)

 প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন   |   ভিন্ন খবর

বাংলাদেশ পুলিশের উজ্জ্বল নক্ষত্র ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান- মানবতার ফেরিওয়ালা  (পর্ব-১)

বাংলাদেশ পুলিশের উজ্জ্বল নক্ষত্র ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান পিপিএম বার। নানা গুনে গুনান্বিত তিনি। চাকরিজীবনে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করারও অনেক উদাহরণ রয়েছে তার। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান উত্তরণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোক্তা এবং সভাপতি, বেদে সম্প্রদায়ের আলোর দিশারী, সুবিধাবঞ্চিত হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নের কারিগর, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার সান্ত্বনার অবলম্বন, যৌনপল্লীর শিশুদের শিক্ষিত করার পদক্ষেপ গ্রহণকারী, কত নামেই না ডাকা হয় তাকে। তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন সর্বোপরি তিনি মানবতার সেবায় একজন নিবেদিতপ্রাণ। হাবিবুর রহমান ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিনব কর্মকৌশল প্রয়োগ করেন। তিনি সাধারণ মানুষকে পুলিশের কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে চিত্রিত করেন। ব্যক্তি ও কর্মজীবনে হাবিবুর রহমান নিজের পুরোটাই সপে দিয়েছেন দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে।  পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণা পাল্টে দিয়ে তিনি মানবসেবায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন । সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণা পাল্টে দিয়ে তিনি মানবসেবায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।


ডিএমপিতে কমিশনার হিসেবে যোগদান করার পর ‘মেসেজ টু কমিশনার’ সেল চালু করে রাজধানীবাসীর প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি। এই সেলের মাধ্যমে যেকোনো সময় কমিশনারকে মেসেজ প্রদান করে যেকোনো আইনগত সেবা নিতে পারছেন রাজধানীবাসী।


১৯৬৭ সালের ১ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের চন্দ্রদীঘলিয়া গ্রামে তার জন্ম। শিক্ষাজীবনে প্রতিটি ধাপ সফলতার সাথে পার করে ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭তম বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। অতঃপর আরএমপিতে সহকারী পুলিশ সুপার, জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশন শেষে ২০০৯ সালে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার এবং ২০১১ সালে ঢাকার পুলিশ সুপার।  ডিএমপির ডিসি হেডকোয়ার্টার্স হিসেবে কর্মরত অবস্থায় নিজের মেধা ও নেতৃত্বগুণে তিনি সাধারণ মানুষ, সহকর্মী ও অধস্তন পুলিশ সদস্যদের কাছে হয়ে ওঠেন একজন সৃজনশীল, পজিটিভ ও মানবিক পুলিশি সেবার উজ্বল নক্ষত্র।


পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন), ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে সফলভাবে কাজ করার পর ডিআইজি হিসেবে ঢাকা রেঞ্জে যোগদান করেন হাবিবুর রহমান। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে করোনাকালীন সমাজের নিম্নস্তরের ও পিছিয়ে থাকা মানুষদের সহায়তা, পুলিশ নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, জনগণকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত করা, মনিটরিং সেল স্থাপনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশকে অনন্য পর্যায়ে নিয়ে যান। যা অন্যান্য পুলিশ ইউনিটের জন্য অনুকরণীয় হিসেবে প্রকাশ পায়।


দীর্ঘ তিন বছর ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ট্যুরিস্ট স্পটে নিরাপত্তা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতা পেতে টুরিস্ট হেল্পলাইন নম্বর ০১৮৮৭৮৭৮৭৮৭  এর মাধ্যমে নানাবিধ সুবিধা সংযোজন করেন হাবিবুর রহমান।

পেশাগত জীবনে তাঁর অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য যেমন লাভ করেছেন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, তেমনি অর্জন করেছেন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।  তিনি তিন বার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং দুই বার প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত হন।  



২০১২ সালে হাবিবুর রহমান ঐতিহ্যবাহী ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ঢাকা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অভিনব সব কলা-কৌশল অবলম্বন করে ব্যপক প্রশংসিত হন। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ইতিহাস ঐতিহ্যকে সমগ্র জাতির সম্মুখে চিরস্মরণীয় করে রাখতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অবস্থিত টেলিকম ভবনের পাশে ‘বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার থাকাকালীন তিনি সাভারে বসবাসরত ২০ হাজারেরও বেশি বেদে জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বেদে জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ১০৫ জন বেদে নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে পোড়াবাড়িতে কর্মসংস্থানের জন্য মিনি গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সাপ খেলা দেখানোর পেশা থেকে ফিরিয়ে এনে ৩৫ জন বেদে যুবককে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রত্যেকের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা, কোচিং সেন্টার ও কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে বেদে ছেলে-মেয়েদের পড়া লেখার অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করা, সরকারি সহযোগিতায় ১৮টি জরাজীর্ণ রাস্তা মেরামত করা, একটি মসজিদ নির্মাণ করা এবং স্থানীয় বেদে জনসাধারণের জন্য একটি পাকা ইদগাহ নির্মাণ করাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেন। তিনি উত্তরণ ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন যার মাধ্যমে সাভারের বেদে পল্লির বাসিন্দাদের জন্য প্রায় ৩০০টি ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।


ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন হাবিবুর রহমান। তিনি ক্রীড়াঙ্গনে থিতিয়ে যাওয়া জাতীয় খেলা কাবাডিকে মূলধারায় তুলে এনেছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সুনাম কুড়িয়ে চলেছেন। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে এখন তিনি বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বও সামলাচ্ছেন কার্যকরভাবে।




পুলিশের চাকরির পাশাপাশি লেখালেখি-গবেষণাতেও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান। তার সম্পাদিত গ্রন্থ ‘Speeches of Sheikh Hasina’, ‘শেখ মুজিবের চিঠি’ ও একই বইয়ের ইংরেজি সংস্করণ ‘Letters of Sheikh Mujibur Rahman’, ‘নন্দিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান’, ‘পিতা তুমি বাংলাদেশ’, ‘মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ’- এসব বইয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত উঠে আসে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা। এছাড়াও হাবিবুর রহমানের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘ঠার’ পাঠক সমাজে আলোচিত। এই বইয়ে তিনি বেদে সম্প্রদায়ের বিলুপ্তপ্রায় ভাষা নিয়ে কাজ করেছেন। গ্রন্থটির জন্য হাবিবুর রহমান ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-২০২৩’ লাভ করেন।


হাবিবুর রহমানের হাত ধরে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে রাজধানীর অদূরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে গড়ে ওঠা অত্যাধুনিক মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘ওয়েসিস’ এ টেলিমেডিসিন সেবা চালু হয়। যেখানে বিনামূল্যে ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা দেয়া হয়।


তার আরেকটি মানবিক উদ্যোগ ‘পুলিশ ব্লাড ব্যাংক’ যা করোনা রোগীদের প্লাজমা এবং ডেঙ্গু রোগীদের প্লাটিলেট সরবরাহ করে কোডিড-১৯ ও ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের মাসিক প্রকাশনা ‘দি ডিটেকটিভ’ সম্পাদনা করছেন। সাংস্কৃতিমনা হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ পুলিশ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা। তার গবেষণা ও দিকনির্দেশনায় মঞ্চায়িত হয়েছে জনপ্রিয় ‘অভিশপ্ত আগস্ট’ ও ‘অচলায়তনের অপ্সরী’ নাটক ।


হাবিবুর রহমান একজন সফল ক্রীড়া সংগঠক। তিনি বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সেক্রেটারি এবং এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি হাবিবুর রহমানের হাত ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অনন্য উচ্চতায আবির্ভূত হয়। তার গতিশীল নেতৃত্বে দেশে বাংলাদেশ গেমস, যুব গেমস, জাতীয় কাবাডি প্রতিযোগিতা, আইজিপি কাপ জাতীয় যুব কাবাড়ি, প্রিমিয়ার কাবাডি লীগ, প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ কাবাডি লীগসহ অসংখ্য কাবাডি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বকাপ কাবাডিতে বাংলাদেশ কাবাড়ির অবস্থান ৫ম। এছাড়াও এশিয়ান কাবাডিতে ৫ম ও সাউথ এশিয়ান কাবাডিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩য়। কাবাডিতে তার অভূতপুর্ব উদ্যোগের কারণে ২০২২ সালে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর মধ্যে কাবাডি ফেডারেশন শ্রেষ্ঠ ফেডারেশন হিসেবে স্বীকৃতি পায়।






(ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের কর্মদক্ষতা ও সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরতে কিংস নিউজের প্রয়াস-১  )





ভিন্ন খবর এর আরও খবর: