বেদে সম্প্রদায়ের ভাষা সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কারসহ ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের অর্জন এক নজরে (পর্ব-২)

 প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৪, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন   |   সফলতার গল্প

বেদে সম্প্রদায়ের ভাষা সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কারসহ ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের অর্জন এক নজরে (পর্ব-২)

হাবিবুর রহমান এর এক অনবদ্য অর্জন ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-২০২৩’ । মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এ পদক গ্রহণ করেন তিনি। উল্লেখ্য, মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা, প্রচার-প্রসারে অবদানের জন্য দেওয়া হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক বাংলাদেশের একটি বেসামরিক পুরস্কার। বিশ্ব জুড়ে মাতৃভাষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সাল থেকে এ পদক প্রদান শুরু হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার পদকটি প্রবর্তন করে।


বেদে সম্প্রদায়ের ভাষা সংরক্ষণ :

নৌকায় জন্ম, বেড়ে ওঠা ভাসমান জনগোষ্ঠী বেদে সম্প্রদায়। সাপ ধরা, সাপ খেলা দেখানো, তাবিজ বিক্রি আর সিংগা লাগিয়ে বাতব্যাথা দূর করাই ছিলো তাদের মূল পেশা। শিক্ষার আলো ছিলোনা, মৃত দেহ ভাসিয়ে দেয়া হতো নদীতে। যদিও এই বেদে জনগোষ্ঠী নিয়ে মুখরোচক অসংখ্য সাড়া জাগানো ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে, কবি সাহিত্যিকগণ লিখেছেন অসংখ্য রূপকথা।
অবহেলিত এই বেদে সম্প্রদায়কে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে নিজ উদ্যোগে দায়িত্বগ্রহণ করেন মানবতার ফেরিওয়ালা বর্তমান ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।

বেদেদের উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে হাবিবুর রহমান প্রত্যক্ষ করেন, এই জনগোষ্ঠীর সদস্যগণ নিজেদের মধ্যে আলপচারিতায় একটি ভাষা ব্যবহার করেন। বেশ কিছুদিন যাবৎ এটি প্রত্যক্ষ করতে থাকেন এবং এই দুর্বোধ্য ভাষাটির প্রতি কৌতূহলী হন। তিনি বেদে জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে পরিচিত কয়েকজনকে ডেকে জানতে পারলেন যে এটি বেদে জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা যার নাম ‘ঠার’। তিনি ভাষাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করেন এবং বেশকিছু শব্দ ও বাক্য নিজের নোটবুকে লিখে রাখেন। এরপর খোঁজ করতে থাকেন এই ভাষাটি আসলে কীভাবে এলো, কারা ব্যবহার করছে এবং বাংলাদেশের কোন কোন প্রান্তে এই ভাষাটি ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি এটি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে ‘ঠার’ ভাষাটি বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোর মধ্যে একটি এবং এই ভাষাটি সংগ্রহ বা সংরক্ষণে তেমন কোনো কাজও হয়নি।


তিনি আরো জানতে পারেন, এই ভাষাটি আসলে কোনো লেখ্য রূপ নেই এবং একটি কথ্য ভাষা। তাই বলে সাড়ে চারশো বছর যাবৎ বসবাস করে আসা একটি জনগোষ্ঠীর ভাষাটি অযত্নে বা অবহেলায় এভাবে হারিয়ে যাবে এই ভাবনা তাকে সারাক্ষণ তাড়িয়ে বেড়াতে থাকে। তিনি বিভিন্নভাবে ভাষাটি সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট অনেকের মাধ্যমে চেষ্টা করে দেখলেন যে আসলে যথাযথ তথ্য উপাত্তের অভাবে কেউই এটির গভীরে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে নিজেই শুরু করলের বিস্তর গবেষণা। ভাষা বিজ্ঞানের ওপর দক্ষতা না থাকায় প্রথমে তাকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসরের সহায়তায় ভাষা বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রপ্ত করতে সক্ষম হন তিনি। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে দেশবরেণ্য গুণীজনদের উপস্থিতিতে এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচিত হয়। বাংলা ভাষায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে হাবিবুর রহমানই প্রথম এমন কোনো গবেষণাগ্রন্থ রচনা করেছেন। গ্রন্থটির প্রকাশক পাঞ্জেরী পাবলিকেশন আয়োজিত এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। দীর্ঘ ৮ বছরের নিরন্তর গবেষণার ফসল বেদে জনগোষ্ঠীর বিলুপ্তপ্রায় ভাষা ‘ঠার’ নিয়ে এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হবার পর থেকেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরই ফলশ্রুতিতে এই গ্রন্থটি মাতৃভাষা সুরক্ষা, উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদকে ভূষিত হন হাবিবুর রহমান।


‘অভিশপ্ত আগস্ট’ মঞ্চনাটক :

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারের নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনাটি নিয়ে বেশ কয়েক বছর গবেষণা করেন হাবিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পুর্নাঙ্গ রায় অ্যানালাইসিস করে নির্মম সত্য ঘটনাটিকে সমগ্র জাতির কাছে তুলে ধরতে সচেষ্ট হন তিনি। অবশেষে এই জঘণ্য হত্যাযজ্ঞের পূর্ণাঙ্গ ঘটনার উপর ‘অভিশপ্ত আগস্ট’ নামে একটি মঞ্চনাটক তৈরি করেন যা এক বছরেই ১০০ বারেরও বেশি মঞ্চস্থ হয়েছে, এমনকি এটি এখন বিশ্ব রেকর্ড করতে চলেছে। কারণ, ইতিহাসে আর কোন মঞ্চনাটক এক বছরে ১০০ বারের বেশি মঞ্চস্থ হয়নি। এছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক কিছু ছবি ও ছবির অন্তরালের গল্প নিয়ে ‘পিতা তুমি বাংলাদেশ’ নামে একটি ফটো অ্যালবাম প্রকাশ করেন।অন্যদিকে পুলিশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন উক্তি ও বক্তব্য নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর কথা ও কলমে পুলিশ’ শিরোণামে প্রকাশনাধীন একটি বইয়ের সংকলন ও সম্পাদনা করছেন তিনি। যার ভূমিকা লিখেছেন স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


হাবিবুর রহমানের একক প্রচেষ্টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনে টেলিকম ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয় পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর:

৩ জানুয়ারি ২০২৩-এ রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর লিখিত পত্র নিয়ে হাবিবুর রহমান সম্পাদিত ‘চিঠিপত্র: শেখ মুজিবুর রহমান এবং এর ইংরেজি সংস্করণ Letters of Sheikh Mujibur Rahman’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ’ গ্রন্থ সম্পদনা করে হাবিবুর রহমান কাগজে-কলমে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকাকে ইতিহাসে স্থান করে দেওয়ার জন্য অবদান রাখেন আর ‘বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করে পুলিশের সেইসব অকুতোভয় অবদানসমূহকে প্রমাণ সাপেক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই বিরল কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে হাবিবুর রহমান-এর নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। হাবিবুর রহমানের একক প্রচেষ্টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনে টেলিকম ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয় পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, যা এক ঐতিহাসিক স্থাপনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দায়বদ্ধতা থেকেই তার এই উদ্যোগ। ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ এটি সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি ‘জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ ২০১৭’-এর উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভের ঠিক পাশেই নব-নির্মিত জাদুঘর ভবনের উদ্বোধন করেন। যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত রাইফেল, বন্দুক, মর্টারশেল, হাতব্যাগ, টুপি, চশমা, মানিব্যাগ, ইউনিফর্ম, বেল্ট, টাই, স্টিক, ডায়েরি, বই, পরিচয়পত্র, কলম, মেডেল, বাঁশি, মাফলার, জায়নামাজ, খাবারের প্লেট, পানির মগ, পানির গ্লাস, রেডিও, শার্ট, প্যান্ট, ব্যাজসহ টিউনিক সেট, ক্যামেরা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, লোহার হেলমেট, হ্যান্ড মাইক, রক্তভেজা প্যান্ট-শার্ট, দেয়ালঘড়ি, এমএম রাইফেলসহ অনেক কিছু সংরক্ষণ আছে।



হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ :

শুধু বেদে জনগোষ্ঠী নয় হাবিবুর রহমান সমাজের পিছিয়ে পড়া হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাদের জন্য বিউটি পার্লার, মিনি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, গরুর খামার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনসহ ফুড ভ্যানের মাধ্যমে অনেকেই স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি বঙ্গবাজারের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের মাঝে এই স্বাবলম্বী হওয়া হিজড়াদের পক্ষ থেকে ২২ লক্ষ টাকা অনুদানের বিষয়টি অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুয়ে গেছে। বেদে জনগোষ্ঠী ও তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের কল্যাণ ছাড়াও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ১৩৪০জন যৌনকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছে তিনি। পল্লীর বাসিন্দাদের গর্ভে জন্ম নেওয়া পিতৃপরিচয়হীন সন্তানদের জন্য শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি তাদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছেন হাবিবুর রহমান। করোনাকালীণ প্রথম কোন মৃত যৌনকর্মীকে ইসলামিক শরীয়া মোতাবেক দাফনকার্য সম্পাদন করে এবং প্রথম কোন যৌনকর্মীর কুলখানির আয়োজন করে তিনি সর্বমহলের প্রসংশা কুড়িয়েছিলেন। ইতিপূর্বে যৌনকর্মীরা মারা গেলে রাতের অন্ধকারে বা সকলের অগচরে মৃতদেহকে পদ্মা নদীর চরে বালুর মধ্যে গুঁজে রাখা হতো বা ইট-বালু ভর্তি বস্তা বেধে দিয়ে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো। হাবিবুর রহমানের উদ্যোগে যৌন পল্লীর বাসিন্দাদের জন্য বর্তমানে একটি স্থায়ী কবরস্থান তৈরি করা হয়েছে। অনেক যৌনকর্মী ইতিমধ্যে নিজের পেশা বদল করে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে। তিনি যৌনকর্মী ও তাদের কোলে জন্ম নেওয়া পিতৃ পরিচয়হীন সন্তানদের সামাজিক পরিচয় রক্ষার জন্য দৌলতদিয়া পতিতা পল্লীর নাম পরিবর্তন করে ‘দৌলতদিয়া বাজার পূর্বপাড়া’ নাম রেখেছেন।




পুলিশ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা হাবিবুর রহমান:

সাংস্কৃতিমনা হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ পুলিশ নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা। এক বছরে শততম বার মঞ্চায়ন করে দেশব্যাপী সাড়া জাগিয়েছে পুলিশ থিয়েটারের কালজয়ী নাটক ‘অভিশপ্ত আগস্ট’। মঞ্চ নাটকটির পরিকল্পনা, গবেষণা ও তথ্য সংকলন করেছেন হাবিবুর রহমান। তিনি ২০১১ সালে যখন ডিএমপির সদরদপ্তরের ডিসি ছিলেন তখন পুলিশ থিয়েটারটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখন পর্যন্ত এক বছরে কোনো থিয়েটার গ্রুপ শতবার কোনো নাটক মঞ্চায়িত করতে পারেননি।





একজন যৌনকর্মীর পুরোপুরি ইসলামি প্রথা মেনে জানাজা পড়িয়ে দাফন:

এছাড়া ২০২০ সালের শুরুতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে প্রথমবারের মতো একজন যৌনকর্মীর পুরোপুরি ইসলামি প্রথা মেনে জানাজা পড়িয়ে দাফন করা হয়। পরে চেহলামেরও আয়োজন করা হয়। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হিসেবে করে দিয়েছেন পশু খামার। তাছাড়া অনেককে গার্মেন্টসে চাকরি, পার্লার ও খাবার দোকানের ব্যবসা গড়ে দিয়েছেন। এসব উদ্যোগের নেতৃত্ব রয়েছেন মানবিক পুলিশ হিসেবে সুনাম পাওয়া হাবিবুর রহমান। এখন নতুনভাবে দৌলতদিয়ার যৌনপল্লির শিশুদের জন্য কাজ শুরু করেছেন তিনি। যার সুফলও মিলছে। বিশেষ করে যৌনপল্লির শত শত শিশুকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে তার হাতে গড়া ‘উত্তরণ ফাউন্ডেশন’। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের হাট বাসুদেবপুর গ্রামে সান্দার বেদে গোত্রের প্রায় ২০০টি পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করে। তাদের শতভাগ মুসলমান। অথচ এই জনগোষ্ঠীর কেউ মারা গেলে মুসলমান হিসেবে তাদের সৎকারটুকুও করতে পারত না। পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেলে আশপাশের কোনো কবরস্থানে তাদের কবর দিতে দেওয়া হতো না। এমন করুণ অবস্থা জানতে পেরে নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি সহকর্মীদের সহযোগিতায় একটি জায়গা খুঁজে পান, যেটি কিনে দান করে দেন এই জনগোষ্ঠীর ২০০ পরিবারের কল্যাণে।



(ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের কর্মদক্ষতা ও সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরতে কিংস নিউজের প্রয়াস এর বাকী অংশ  )

সফলতার গল্প এর আরও খবর: